
PROTIBEDON
প্রতিবেদন লুকিয়ে থাকে কার আড়ালে?
তুমি ক্যানো মুখোশ পরে হাত বাড়ালে?
বৃত্ত এঁকে ঘুরছি তালে প্রশ্ন মনের বোঝা,
কে দোষী কে নিরপরাধ যাচ্ছে না তো বোঝা!
রূপকথাতে যান্ত্রিকতা সাম্প্রতিকের জামা,
একটু-আধটু হোঁচট খেয়ে খেয়ালখুশি থামা,
উড়ে আসা ছায়ার মতন মূর্তি হয়ে হাসে,
ছলাকলায় দক্ষ বলেই দাঁড়িয়ে থাকে পাশে।
অতিক্রমের পরিস্থিতি সেলাই যেমন ধারা,
টেনেটুনে হাতের রেখা আঁকল কবে কারা?
অধিকারের আকার দেখে ভাগ্য বনবাসে,
একই ছবির প্রতিটা দিন লজ্জা পেয়ে হাসে।
১২ ডিসেম্বর ২০১৪। ঢাকা

POCKET KATA
পকেট কাটা রক্তে ভিজে, সুখ কী যে!
পূর্ণিমা চাঁদ ফুটবল মাঠে, কয়টা গোলের দাম;
নেশার ঘোর কাটল তবু হয় না মনে নাম!
সবই দেব উজাড় করে প্রতিজ্ঞাতেই ফাঁকি,
মতামতের কাঠামো তাই জানে আঁকাআঁকি।
মাথাপিছু পরিমাণে আকাশ মুচকি হাসে,
নিয়ন্ত্রণের উল্টো ¯্রােতে ইচ্ছে তখন ভাসে।
সমীকরণ জরুরি নয় কিন্তু কিছু লাগে,
হিসাব ছাড়াই বুঝতে পারি সবই তোমার ভাগে।
স্বীকার করে বিপদ ডাকে অপরাধীর জামা,
অভিযোগের তালিকাটা দেয়াল থেকে নামা।
১১ জুন ২০১৫। ঢাকা। রাত ১২:৩৯।

PAHARAR CHHAYA
পাহারার ছায়াটা তো হেলেদুলে সঙ্গে চলে,
উপদেশ পোশাক পরে নানান সুরে কথাবলে...
তুমি কেন মানা শোনো না!
অচেনা প্রতিবেশী একটু বেশি হাতটা মেলায়,
মেতে থাকে নেশার ঘোরে আপন খেলায়। কখনো পূর্ব দিকের সূর্য দেখে,
দখিনে জানলা খুলে আলো মেখে।
পাতাটার উল্টো পিঠে ভাগ্য নামের পদ্য লেখে!
আসলে ভিতর-বাহির সব মিলিয়ে একটু বুঝে,
নকশার জটিল বুকের মন্ত্র খুঁজে
কখনো মুখোশ পরার কায়দাটাতে,
ধরা পড়ে নিজের কাছেই হাতেনাতে।
কারাগার শব্দটাকে লুকিয়ে রাখে ভিন্ন খাতে!
২৪ জুলাই ২০১৪। ঢাকা।

PORSHIR EK E MUKH
পড়শির একই মুখ একই সুখ বসবাস
দিনগুলো কাটছে একই রকম
একঘেয়ে শহরে, বন্ধুর বহরে,
একই হাসি পাশাপাশি
দিনগুলো কাটছে একই রকম
এভাবেই উল্লাস, চলাচল ঘড়ি-কাঁটা
সেটাই-বা কার থেকে কম, বোকা বোকা ফুর্তির দম
খোলা বুক পৃথিবীতে ঢেকে রাখা পাখা
পরিচিত নকশায় কত রং মাখা
ফেরিঅলা ফেরি করে জমিয়েছে হাট
লজ্জাতে লাল হয় বইয়ের মলাট
গুরুজন হাঁকছে যখন, জন্মের শুরুটা কখন।
জটলার জমা বুকে সামান্য জামা
চলাচল শুরু করে জেনেশুনে থামা
যাকে চিনি ভিন্ন একই গান গায়
সমস্যা না শুনেই দিয়ে দিল সায়
এভাবেই উল্লাস, চলাচল ঘড়ি-কাঁটা
সেটাই-বা কার থেকে কম, বোকা বোকা ফুর্তির দম।
৩০ জুন ২০১৩, ঢাকা।
পড়শির একই মুখ। কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। শিল্পী: রেজাউল করিম লিমন। সংগীতায়োজন: রেজাউল করিম লিমন। কণ্ঠধারণ: ২৫ জানুয়ারি ২০১৪, ঢাকা।

PORIBESH GOMVIR
পরিবেশ গম্ভীর, আকাশের চেহারাতে রাগ,
এলোমেলো চাপ দিয়েছিল পরিচিত দাগ
তোমার আমার সমীকরণের মানে,
সবাই বোধ হয় জানে।
মানচিত্রের রাস্তাজুড়ে জিজ্ঞাসা,
লুকিয়ে রাখা কিছু আশা।
অসম্ভবের একটু আগে সম্ভব পায়চারি চলে,
উল্টো যুক্তি কথা বলে।
পাল্টা মুক্তি কথা বলে।
লাবণ্য হারিয়ে কিছুক্ষণ আটকে থাকা,
অজুহাতে বন্ধ চাকা।
চোরাবালির অন্ধ স্বভাব বাধ্য হয়ে মাশুল,
হয়তো-বা সামান্য ভুল।
যে কারণে ছিঁড়েছে চুুল।
চারপাশ অস্থির বাতাসের চেহারাতে রাগ।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১২, ঢাকা।
পরিবেশ গম্ভীর। কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। শিল্পী: আনোয়ার হোসেন খান রূপম। সংগীতায়োজন: অর্ক সুমন। কণ্ঠধারণ: ২৯ জানুয়ারি ২০১৪, ঢাকা।

PORIBOHON KLANTO VISHON
পরিবহন ক্লান্ত ভীষণ
আর পারছে না করতে পরি বহন।
তাই পরিদের হতাশা নিয়ে একটা গান
যার ওজন মাত্র এক টন।
তাদের দলে যেহেতু তুমি ছিলে, এক ঢিলে
অতএব এখানে ক্ষান্ত, হই না শান্ত।
প্রথম প্রথম যেহেতু লজ্জায়, দিন যায়,
অতএব ভুলের তালিকা, মানছ বালিকা
২৫ নভেম্বর ২০১২, ঢাকা।
পরিবহন ক্লান্ত ভীষণ। কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। শিল্পী: নিবিড়। সংগীতায়োজন: রেজাউল করিম লিমন।কণ্ঠধারণ: ১৩ অক্টোবর ২০১৩, ঢাকা।

PASH KATIYE JETE PARE
পাশ কাটিয়ে যেতে পারে, ভুলো মনের অন্ধকারে
বারেবারে পরিস্থিতির দায়!
এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলে, একটুখানি হয়তো মিলে
শীতের কাঁপন চাদর কিনেও কেউ দিল না গায়।
সন্ধি যখন বন্দী হয়ে যুক্তি বরফ গলে,
দুচোখ বুজে এগিয়ে যাওয়া চুক্তি কথার ফলে
তোমার সাথে কয়টা সিঁড়ি কয়টা গোনা ধাপ,
কোন আবেগের নকশা এঁকে না বোঝাতেই ঝাঁপ!
একটু আঘাত দুর্ঘটনা টুকরো আবার জোড়া
শূন্য ঘরের চেহারাটা রং-কাগজে মোড়া।
পাশ কাটানো স্বভাবে তাই সূক্ষ¥ সুতোর টান
হিসাবগুলো পরখ করেও পায় না পরিমাণ।
১ মার্চ ২০১৪, ঢাকা।
পাশ কাটিয়ে যেতে পারে ভুলো মনের অন্ধকার। কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। শিল্পী: সামিনা চৌধুরী। সংগীতায়োজন: অটমনাল মুন। কণ্ঠধারণ: ২৭ মে ২০১৪, ঢাকা।