
KICHU KICHU PORICHITO
কিছু কিছু পরিচিত গম্ভীর চেনামুখ
বারবার বলছে গলছে কেন তোর
প্রচলিত সুর।
নিজের চরকা নাকি তেল নিয়ে ঝামেলায়
খানিকটা অস্থির অযথা টানে।
সে কারণে পৃথিবীটা সামান্য হেলে গিয়ে
সকালটা ঠেলে দেয় মধ্যিখানে!
মাঝখানে পড়ে গিয়ে ডানে-বামে কার কানে
অতি বিনয়ের সুরে হাহাকারে খাল!
তাল তাই হাসিমুখে আপসের পোষা ডালে
জানে না তো কোনটা আগামীকাল!
খুব জানা কথাগুলো আবারও কথার সুরে
ঘুরেফিরে বলছি তোমার কারণ!
তবু করছ বারণ, কেন করছে বারণ!
২৬ মার্চ ২০১৮। রাত ১০:৩০। ঢাকা।

KIJE HOBE KALKE
কী যে হবে কালকে ভেঙে দিল ডালকে
তাই বলে গাছ কি লাগাব না?
বোকা বোকা ওজনে, খুব ভারী দিন যায়
তাই বলে ভালো কি লাগাব না?
গোনা সব অস্থির তীর ছোড়া প্রশ্ন
ফাঁস করে বলেছিল হায় হায়
অসহায় শব্দটা উল্টেপাল্টে দিয়ে
সামর্থ্য খানিকটা চমকায়।
সে কারণে পাখি সব করে রব হাবভাব
ঝাঁপ দেয়া কঙ্কাল তালের অভাব!
মিলেমিশে কোন বিষে প্রতিষ্ঠানের ভূত
বিষয়বস্তু খুঁজে করছে মজুত!
কেন ভাই হইচই এত সব বইটই
পদ্ধতি চোখ বুজে ভাজে খই!
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮। সন্ধে ৭:৩৫। ঢাকা

KHUB SHORASHORI BOLLE
খুব সরাসরি বললে বিষয়টা হালকা লাগে, কেমন যেন এক অশিক্ষিত ভূত
মনে মনে আত্মীয় লাগে!
তাই যতটুকু সম্ভব হাবভাব পাল্টিয়ে
হাসিমুখ খোঁচাতে বুঝিয়ে দিই;
আমি পাইনি, কিছু পাইনি!
অথচ বিষয়টা সহজ কত
স্বচ্ছ-সরল জলের মতো
[তবু] শখের বশে খুঁজছি ক্ষত!
মনে-মুখে এক হয়ে সোজা নির্ভয়ে সরাসরি বলতে পারি যেটা সত্যি!
অনুবাদ জটিলতা অন্য ঘোরে
জোরেশোরে নতুন করে বোঝাচ্ছে...
চোখ মোছাচ্ছে!
কারণের দুই হাত জোড়া করে
চেয়ে ক্ষমা বুঝতে পারে অভিনয়!
নেই একফোঁটা জল চোখে,
তাই শুকনো মনের কান্না আর না!
সকাল ০৯:৩০। ঢাকা

KENO JANI
কেন জানি আচরণ
সাধের বোধ অনুরোধ শুনছে না!
সংখ্যাকে ক্ষমতার ওজনে গুনছে না!
অজুহাত কিছু হাত সুতোতে বুনছে না।
তাই যত চেনা ভূত অদ্ভুত খুঁত নিয়ে মূর্তি হয়!
ফুর্তি ভয় দেখে রোজ মৃত্যুকে স্বাভাবিক মনে হয়!
বাঁচার তেল ফুরালেও ফুরায় না বিশেষ শেষ,
আছি বেশ কেশ নিয়ে বাহারি ভিন্ন বেশ!
চেহারায় যায় সব একদম খাপে খাপ,
মোড়কেই সান্ত¡না বাকি সব অভিশাপ!
০২ মার্চ ২০১৮। রাত ১০:১৫। ঢাকা

KALO SHAGOR VALO PANI
কালো সাগর ভাল পানি
ইচ্ছাপুরণ চোখের ছানি !
আড়ি আড়ি দুষ্ট আড়ি
চারপাশে সব কাদের বাড়ি !
কিনতে গিয়ে সোহাগ গয়না
সামনে দেখি খাঁচায়র ময়না !
তাই নিয়ে হয় কাড়াকাড়ি
চারপাশে সব কাদের বাড়ি !

KOTO BATASH
কত বাতাস লাগে তোমার বেলুন নামের আয়ু!
এক নিমেষে আঁধার হলো আকাশভরা বায়ু!
কালো মেঘের মুচকি হাসি থমকে দিল মন
শেষ গাড়িটার তেল ফুরোতে আর যে কতক্ষণ!
হিসাব করা অঙ্কটাতে মাকড়সাদের বাসা
সেই কারণে সংখ্যাগুলো যত লাগছে ভাসা ভাসা
ভদ্রলোকের ভদ্র কথায় আর ভিজে না কেউ!
এলোমেলো নদীর বুকে আজগুবি সব ঢেউ!
আসা-যাওয়ার গল্পটুকু রান্না যখন শেষ,
খাবার টেবিল লজ্জা পেয়ে হচ্ছে নিরুদ্দেশ।
সুন্দরী সব প্রেমের পাখি ভাঙছে খাঁচার দোর,
ভরা পুকুর আসলে তো লোভের পানি তোর।
১৮ নভেম্বর ২০১৪। সকাল ১০:৫৩:১৬। ঢাকা।

KHUDHA JOKHON
ক্ষুধা যখন লজ্জা পেয়ে মুখটা আড়াল করে,
মনুষ্য প্রেম জাল বিছিয়ে খাদ্য খেয়ে মরে।
উপায়বিহীন তামাশাতে দিল অভিশাপ,
খায় না কেন খাপ!
হাসিমুখে রোগী যখন হাসপাতালে যায়,
অসুখ-বিসুখ নৃত্য করে সঙ্গী হতে চায়।
এই অসুখের বিচার সুরে মামলা ছাড়া রায়,
মহা সুখী কবিরাজের মনটা দিল সায়।
নিরিবিলি একটা ভোরে তোমার সাথে দেখা,
সেখান থেকে মনের কথা খুলে বলতে শেখা।
কাহিনিখান শুনে বলো আহ্লাদের ঢেঁকি,
ক্ষুধার জ্বালার অভিনয়ে সব চেহারাই মেকি।
২২ জুলাই ২০১৩। ঢাকা

KIMBHUT KIMAKAR
কিম্ভুত-কিমাকার তুমি কার! তুমি কার !
নিজের ভেতরে পোষা হয়তোবা জরুরী সরকার!
ক্যানো তাকে দরকার ?
খেলছিল পরশু গতকাল কতকাল
শিশুকাল হাঁটাহাঁটি ক্ষতকাল
আবিস্কারের নেশা- বড্ড কাছে ঘেষা বাড়িঘর
চশমা হারিয়ে তাই দেখছেনা কোনোকিছু কারিগর।
বলছিল ইতিহাস চারপাশ বসবাস
আশপাশ পায়চারী হলো ফাঁস
চতুর্ভূজের পাশে তিনকোনা সংসার যার যার
গলায় ঝুলছে দেখি নকল সোনায় গড়া সমাহার।
১২জুন, ২০১৩। ঢাকা
কিম্ভুত-কিমাকার তুমি কার! । কথা+ সুর : এনামুল করিম নির্ঝর । শিল্পী : বাবু, সজীব, গৌরব,লিমন, নির্ঝর, ইমন,সুমন,সাদ,অনম। সংগীতায়োজন: নির্ঝর চৌধুরী ও রোকন ইমন। কণ্ঠধারণ: ২৫ মে ২০১৫, ঢাকা।

KI CHAY - KI PAY
কী চায়, কী পায়, সমীকরণ!
একটু খোঁজে দুচোখ বোজে।
পরিস্থিতির চাপে ধাপে ধাপে
কতটুকু আসা-যাওয়া মনে মনে মাপে
সে কারণে কালো রাতে
ভাগ্যের দুই হাতে ছিল নিশ্বাস।
শেষ নিশ্বাস যদি মৃত্যু নামের কোনো যবনিকা হয়,
যেখানে তারার খোঁজে আকাশটা ধারে-কাছে
অসময় কিংবা একটু সময়।
লেখাপড়া অর্ধেক বাকির খাতায় ফাঁকি
না থাকার মতোই থাকা!
খাতার পাতার পিঠে একমুঠো পেনসিলে ছবিটা আঁকা...
১৭ ডিসেম্বর ২০১৩, ঢাকা।
কী চায়, কী পায়, সমীকরণ! কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। শিল্পী: অটমনাল মুন। সংগীতায়োজন: অনম বিশ্বাস। কণ্ঠধারণ: ১৩ জানুয়ারি ২০১৪, ঢাকা।

KORKOSH KORKOSH
কর্কশ কর্কশ কর্কশ...
তুই কপালটা ভালো করে ঘষ,
অঙ্কটা নতুন নিয়মে নতুন করে তুই কষ।
কর্কশ কর্কশ, তুই বুদ্ধিটা ভালো করে ঘষ,
অঙ্কটা নতুন নিয়মে নতুন কায়দা করে কষ।
কর্কশ কর্কশ কর্কশ...
ইটের দেয়াল পেলে মগজটা ভালো করে ঘষ,
পুরোনো প্রেমের চিঠি কাগজটা কাঁদে খসখস
চমৎকারের চেহারাটা ধার করে কাছে নিয়ে আয়,
যদিও জানি ধার করা সুখ সংখ্যাতে কমে যায় যায়!
আসা-যাওয়া রাস্তাটাতে ঘরমুখো হয়ে পাশে বস।
কর্কশ কর্কশ কর্কশ...
সম্বল ঘরবাড়ি হঠাৎ করে নামে ধস,
তেত্রিশ দাঁতে হাসি ঝরে পড়ে সব রসকষ, কর্কশ কর্কশ...
চোট খাওয়া মন মেরামত হয় নতুন পোশাক চেয়ে রয়
নগদের ঘুম অগ্রিম পুরোটাই অযথাই ভাবে নয়-ছয়!
সাপের ফণায় ভাসে নিশ্বাস শব্দটা করে ফসফস, কর্কশ কর্কশ...
তুই ভাগ্যটা কায়দাতে ঘষ
হিসাবটা নতুন নিয়মে নতুন ফন্দি করে কষ।
কর্কশ কর্কশ...
মেঘলা আকাশ পেলে আবেগটা ভালো করে ঘষ
পুরোনো প্রেমের জট, গাছ-পাতা কাঁদে খসখস
কর্কশ কর্কশ...
চেয়ারটা ফাঁকা পেলে মর্যাদা বুকে নিয়ে বস,
হিসেবের গোলমালে নিয়ে নিস কিছু খ্যাতি-যশ।
০৮ মার্চ ২০০৮, ঢাকা।
কর্কশ কর্কশ কর্কশ... তুই কপালটা ভালো করে ঘষ। কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। শিল্পী: পান্থ কানাই। সংগীতায়োজন: নির্ঝর চৌধুরী ও রোকন ইমন। কণ্ঠধারণ: ১০ নভেম্বও ২০১৩, ঢাকা।