
KI DILE CHHAI
কী দিলে ছাই দিনে দিনে, আমাকে চিনে!
বারো ঘণ্টা চৌদ্দ মিনিট সমীকরণ কিনে।
পূর্ব-পশ্চিম এবং উত্তর-দক্ষিণে।
হাসপাতালের ঠান্ডা ঘরে জেলখানার ছাদ
যতেœ রাখা তালিকাটা শেষ মুহূর্তে বাদ।
মুখোশ-মুখর অধিবেশন বুঝতে পারি ঘুমে,
একটু-আধটু আওয়াজ আসে আড্ডা মহা ধুমে!
কারো কারো গলা উঁচু কারো কারো নিচু,
হিসাব করে অনুভূতি কত মাথাপিছু!
পেছন দিকে তাকালে হায় জলপ্রপাতের ঠ্যালা,
নোংরা পানি সাঁতার কাটে চক্ষু কোথায় গেলা।
অনুরোধের ঢেঁকি নিয়ে আত্মীয়দের শোক;
আত্মা ছাড়া আপন মানুষ আবেগ ভরা ঝোঁক!
ঘণ্টা-মিনিট গুনে গুনে নিশ্বাস আসে-যায়,
বিশ্বাস নামক শুকনা বৃক্ষ ঘুণ পোকাতে খায়!
ট্রাফিক জ্যামের মতন ভিড়ে বারান্দাতে জমা,
আল্লাহ-মাবুদ দয়া করে করবে নাকি ক্ষমা
ডাক্তার সাহেব সময় বেঁধে করে পায়চারি;
চিরবিদায় কতক্ষণে আজব নিয়ম জারি।
দুইটা হাতের মোনাজাতে ভরসাতে কাল
জীবন-মৃত্যুর মধ্যরেখা জটিলতার জাল।
১৮ মে ২০১৩, ঢাকা।
কী দিলে ছাই দিনে দিনে, আমাকে চিনে। কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। শিল্পী: অটমনাল মুন। সংগীতায়োজন: অটমনাল মুন। কণ্ঠধারণ: ০৩ জানুয়ারি ২০১৪, ঢাকা।

KOYEK TUKRA JORA LAGE
কয়েক টুকরা জোড়া লাগে কয়েক টুকরা না,
নিষেধ গুলোর ব্যাখ্যা নিয়ে শুনছে না মানা।
হচ্ছেনা জানা।
বুকের কাছে তরবারী ভয়ের খাতা ফাঁকা
তাদের কাছে হচ্ছে মনে এটাই ভালো থাকা।
আবিস্কারের নেশা’র ভেতর মস্ত বড়ো দ্বিধা
একেকজনের একেকটা মন ভীষন অসুবিধা।
জলতরঙ্গ বন্ধু যেমন আগন্তকের চাওয়া
শুকনো মাটির শুকনো বুকে একটু খুঁজে পাওয়া।
পৃথিবীতে মেরামতের বিরতীহীন রাত
পরস্পরের বোঝাপড়ায় এগিয়ে দেয়া হাত।
৩১ মে, ২০১৩। ঢাকা
কথা+ সুর : এনামুল করিম নির্ঝর । কয়েক টুকরা জোড়া লাগে ।

KHOJ NIYE DEKHO TUMI
খোঁজ নিয়ে দেখো তুমি গত সাত দিন,
জলসিঁড়ি দুই চোখে, বুকে আলপিন।
বিচিত্র কথা ভেবে অনুমান জ্বর,
স্বচ্ছ ছবির মতো আমি একা ঘর।
হুলুস্থুলের ক্ষয় হয় কীই-বা লাভ,
দাও ছেড়ে যতটুকু উড়ো হাবভাব।
যন্ত্রণা দুই কাঁধে আকাশের ঘুড়ি,
আঙুলে ফুর্তির আজগুবি তুড়ি।
খোঁজ নাও ভালো করে আসল খবর,
পৃথিবীটা কেন হলো আগাম কবর।
২২ জুন ২০০৯, ঢাকা।
খোঁজ নিয়ে দেখো তুমি গত সাত দিন। কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। শিল্পী: সুবীর নন্দী। সংগীতায়োজন: নির্ঝর চৌধুরী ও রোকন ইমন। কণ্ঠধারণ: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৩, ঢাকা।

KIROKOM JENO JHAPSHA
কী রকম যেন ঝাপসা ঝাপসা চিন্তা
ভাবছি দুইটা কিন্তু আসলে তিনটা।
ঠিক-বেঠিকের দোদুল্যমান মনটা,
শুরুর আগেই পরীক্ষা শেষ ঘণ্টা।
অসময় ঝোঁকে সময়ের চোখ কতটা দেখছে সূক্ষ্ম
নকল হাসিতে সূর্য উঠছে আসলে আড়ালে দুঃখ।
অন্তত তুমি সান্তনা আলো যেদিকে তাকাও মুক্তি,
জলে ভেসে গেল আবর্জনায় আপনজনের যুক্তি।
কী রকম যেন অস্বস্তিতে ঘুরেফিরে অপমান,
অসহ্য সব অভিনয় মেনে ভুলো মন পিছুটান।
প্রশ্ন যেখানে অকেজো শক্তি সারাংশ মনোযোগ
যতই সুস্থ ভাবছি নিজেকে পুষতে হচ্ছে রোগ।
১০ মে ২০১৩, ঢাকা শহরের রাস্তা।
কী রকম যেন। কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। শিল্পী: আবিদুর রহমান জুয়েল। সংগীতায়োজন: শায়েখউদ্দীন (শান)। কণ্ঠধারণ: ঢাকা।

KIVABE JABO PORIKKHATE
যাদের সাথে চুক্তি ছিল যুক্তি ছিলো খোলা,
ফলাফলের ঘন্টা বেজে নাটকে দেয় দোলা !
কিভাবে যাবো পরীক্ষাতে
পরষ্পরের শর্ত ঘোরে গর্ত খুঁজে মরে
গাছের পাতা হালকা ছোঁয়ায় তামাশাতে ঝরে
কলম- কালির শুকনা শরীর শিক্ষা-দীক্ষা ঢিলা,
আদেশ দিল জলদী করে তেল আর পানি মিলা !
সতর্কতার ভূমিকাতে আলোচনার জামা
কানে কানে বার্তা দিল পরিস্থিতি থামা।
বরফ কলের যন্ত্র খারাপ জমেনা তাই পানি
সবার আগে তুলতে হবে নিজের চোখের ছানি।
কিভাবে যাবো পরীক্ষাতে
কিভাবে ধরবো আগুন হাতে
কিভাবে যাবো পরীক্ষাতে
কিভাবে ধরবো হাতেনাতে
৬ মার্চ, ২০১৫
যাদের সাথে চুক্তি ছিল যুক্তি ছিলো । খোলা কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। সংগীতায়োজন: রেজাউল করিম লিমন ,অটমনাল মুন ও অর্ক সুমন। শিল্পী: ঔশী। ১০ এপ্রিল ২০১৫ । ঢাকা

KOYLA KAALO
কয়লা কালো আগুন জ্বালো জ্বলেপুড়ে লাল,
বিনা মেঘের বজ্রপাতে ভাঙল গাছের ডাল।
কথায় কথায় কথা বাড়ে, বয়স বাড়ে না,
সেই কারণে নড়াচড়া নজর কাড়ে না।
পরিস্থিতির চেহারাতে গন্ডগোলের ছাপ,
আত্মঘাতী ভালোবাসায় জেনেশুনে ঝাঁপ।
যতই খোঁজো আবিষ্কারের ঠিকঠিকানা নাই,
আসল গেল গ্রামের বাড়ি শহর বুকে ছাই।
ভরসাতে আয়েশ করে পরিহাসের আলো,
সান্ত্বনাতে সামাল দিয়ে কিনল নকল ভালো।
আসল-নকল মিষ্টিমুখের ঠিকঠিকানা কই,
ছাপাখানায় তৈরি করে হরফ ছাড়া বই!
১০ জুন ২০১৩, ঢাকা।
কয়লা কালো আগুন জ্বালো জ্বলেপুড়ে লাল। কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। শিল্পী: চন্দনা মজুমদার। সংগীতায়োজন: শায়েখউদ্দীন (শান)। কণ্ঠধারণ: ১২ অক্টোবর ২০১৩, ঢাকা।

KOTHIN HOYTO SHAMLANO
কঠিন হয়তো সামলানো,
বোধ হয় জানো, সবটা জানো।
তুমি উপায় মানো, তুমি সবই জানো।
কিংবা মনে আছে শক্ত টানও, সবই জানো।
তুমি শব্দের আড়ালে থাকো,
বুঝতে পারো সামান্য ফাঁকও।
তাই আড়ালের গল্পগাছ হয়ে
ডালপালা ছড়িয়েছে ভয়ে ভয়ে,
মনে হয় অনেক কষ্ট সয়ে।
...তুমি সবই জানো
মেঘে ঢাকা কিছু তারা করে উল্লাস,
মনে হয় করে দেবে সব কথা ফাঁস।
কিন্তু শর্ত ছিল গোপন রাখার
ভাঁজ করা সিন্দুকে আপন পাখার
অল্পতে খুশি হয় বেশির হৃদয়
...তাই মনে মনে ক্ষয়।
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ঢাকা।
কঠিন হয়তো সামলানো। কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। শিল্পী: দিনাত জাহান মুন্নী। সংগীতায়োজন: সাদউল ইসলাম (সাদ)। কণ্ঠধারণ: ১১ এপ্রিল ২০১৪, ঢাকা।

KON MANUSHTA
কোন মানুষটা চেনা, কোন মানুষটা কেনা!
অভিজ্ঞতার রাত্রি-দিবস রহস্যতে রাঙা,
সেই কারণে ঘড়ির কাঁটা ভাঙা!
চেনা দেয়াল গাঁথুনিটা শূন্য চিলেকোঠা,
অট্টালিকায় খুঁজতে গিয়ে সিঁড়ির ধাপে ওঠা।
উড়ছে তখন ছোট্ট পাখির ক্ষীণ দুটো পাখা
ক্লান্ত ভীষণ বিকেলটা তাই সন্ধেবেলায় রাখা।
রক্তবীজের ধূলিকণা চেনা ধরন হাসি,
আবির্ভাবের সাদা সময় অসময়ের ফাঁসি।
পুড়ছে ভেবে বোকা কপাল নিচ্ছে কিছু তাপ
নিজের দোষে কারো সাথে খায়নি তারও খাপ।
২৮ আগস্ট ২০১৩, ঢাকা।
কোন মানুষটা চেনা, কোন মানুষটা কেনা। কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। শিল্পী: লাবিক কামাল (গৌরব)। সংগীতায়োজন: লাবিক কামাল (গৌরব)। কণ্ঠধারণ: ২ অক্টোবর ২০১২, ঢাকা।

KOLPONA SHOB E JANA
কল্পনা সবই জানা বাস্তবতার চাদরে
বেড়ে ওঠে কার আদরে
লতাপাতা সংসারে জ্বালাতন সারাক্ষণ
সিন্দুকে আটকে থাকে কার মন?
উঁকি দিল জানালায় অবাধ্য চোখ দুটো জ্বালিয়ে
হাসছিল চেনা সুখ হঠাৎ করে গেল পালিয়ে
ওপারের সূর্যটা এপারের চাঁদ হয়ে কোথায় লুকাবে ভেবে পায় না
হয়তো তোমার মতো প্রকাশ্য দিবালোকে হাত ধরে হাঁটতে সে চায় না
ঘুড্ডির শরীরে অসুখ-বিসুখ বলে উড়িয়ে দিলেও বসে কান্না
কল্পনা বাস্তবে মাখামাখি লীলাখেলা অযথা বিলাসী প্রেম আর না
আংশিক চারিদিক নয়-ছয় কিছু অভিনয়
হাসিমুখে কতজন সয়।
খোলা খাতা হিসাবের একাকার হাহাকার
কারুকাজ নকল হার, যার যার
৩০ জুন ২০১৩, ঢাকা।
কল্পনা সবই জানা বাস্তবতার চাদরে। কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। শিল্পী: অটমনাল মুন। সংগীতায়োজন: রেজাউল করিম লিমন। কণ্ঠধারণ: ১০ডিসেম্বর ২০১৩, ঢাকা।

KI KORE JORA DEYA JAAY
কী করে জোড়া দেয়া যায়,
তুমি উপায় খুঁজে দাও সায়।
সামান্য বিন্দুটা হয়ে যায় রেখা
সংকট যতটুকু কার কাছে লেখা।
মূর্তির আড়ালে মুখোশের মুখ,
জবাব চাইলে জট খুলে হয় সুখ।
অজস্র কতটুকু প্রশ্ন জাগে
সে কারণে আকাশটা ছোট্ট লাগে।
ফুটানিতে ফুটে থাকে চাঁদ-তারা ফুল
কুয়াশাতে দেখা গেল খুব কাছে কূল।
কী করে জোড়া দেয়া যায়,
ক্যানো বোকার মতো দিল রায়!
০৮ ডিসেম্বর ২০১২, ঢাকা।
কী করে জোড়া দেয়া যায়। কথা + সুর: এনামুল করিম নির্ঝর। শিল্পী: লাবিক কামাল (গৌরব)। সংগীতায়োজন: লাবিক কামাল (গৌরব)। কণ্ঠধারণ: ১০ ডিসেম্বর ২০১৪, ঢাকা।